Time News

Latest Post

রকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলায় জর্জরিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

তিনি ছাত্রদলের বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কারা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর তিন দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি নেই তারা নিজেরা যোগাযোগ করতে পারবেন।


উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন। এরপর একটি মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপির অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পুলিশ নির্যাতন করে মিলনকে হত্যা করেছে। আগামী রবিবার সারাদেশে বিএনপি বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে।

মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

মাদক দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিকে মোকাবেলা করতে হবে সমন্বিতভাবে। সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া মাদক নির্মূল কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স মাঠে মহানগর বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের আইজিপি এ কথা বলেন।

তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলন পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মারা গেছে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। 

তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কারাগারে কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না তা’ তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তিনি বলেন, পুলিশ একটি সুশৃংখল বাহিনী, এ বাহিনীর কোন অন্যায় অবহেলা মেনে নেয়া হবে না।

পরে তিনি একই স্থানে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, তালুকদার আব্দুল খালেক ও মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় শনাক্ত হওয়া নিহতদের লাশ কাল-পরশুর মধ্যেই দেশে ফিরবে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ মেডিকেল টিমের সদস্য ও ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) নেপালে অবস্থান করা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৩৫ জনের লাশ শনাক্তের কাজ শেষ করা হয়েছে। আশা করছি, আগামীকালের মধ্যে আমরা আমাদের কাজ শেষ করতে পারবো। কাজ শেষ হলেই পরদিন থেকে লাশ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

‘তবে, কিছু লাশ দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না’ জানিয়ে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এই লাশগুলোর ডিএনএ প্রোফাইল করতে হবে। সেক্ষেতে আরও একটু সময় লাগতে পারে।’

নেপালে নিহত অনেকের স্বজন নেই, তাদেরটা কীভাবে শনাক্ত করবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নেপালে যাদের স্বজন নেই, তাদের ডিএনএ দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। আর যাদের স্বজন আছে দেশে ফিরে ডিএনএ দিয়ে যাবে।’

‘এ কারণে আট থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ডিএনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে আমরা দেশে যাবো সেখানে স্বজনদের এসে স্যাম্পল দিতে হবে। এক্ষেত্রে আরও কিছু প্রক্রিয়া আছে। যার কারণে সময় একটু লাগবে।’

দুর্ঘটনায় নিহতদের শনাক্তকরনের জন্য স্বজনদের রক্তের নমুনা মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের তদন্ত সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেছেন, ‘অতীতের বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাপ্রবাহ বিচারে ‘নেপাল ট্র্যাজেডি’ তদন্তে এক থেকে দেড় বছরও সময় লাগতে পারে। এছাড়া আইকার (আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) নিয়ম অনুযায়ী এটাই তদন্তের নিয়ম।’

‘এ ঘটনার তদন্ত করবে নেপাল। আমাদের টিম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে’ বলে জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহরিনকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘আহত শাহরিন আহমেদকে নেপাল থেকে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে। শাহরিনের পায়ে একটা ফ্র্যাকচার আছে। শরীরে বার্ন হয়েছে পাঁচ শতাংশ। তাকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।’

প্রসঙ্গত, সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এছাড়া এ ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি আহত হয়।

তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক অত্যাচারে হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এসময় তিনি ‘বিএনপি এখন দিশেহারা নয়, বেপরোয়া’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই- যাদের পায়ের নীচের মাটি থাকে না কেবল তারাই এমন কথা বলতে পারে। আপনাদের মনের ইচ্ছা কী তা আমরা ভাল করেই বুঝি। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেই আপনি প্রলাপ বকছেন।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলেছে। এখন পরিকল্পিত নৈরাজ্য তৈরির জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেবরা উস্কানি দিচ্ছেন। ভয়ঙ্কর কিছু দুর্ঘটনা সৃষ্টির পরিকল্পনার চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক বেহুঁশ হয়ে খাপছাড়া কথাবার্তা বলছেন- বলেন তিনি।

এদেশের সকল দুর্গতির জননীই হচ্ছেন শেখ হাসিনা মন্তব্য করে রিজভী বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) জনশুন্য এমন একটি দেশ চাচ্ছেন সেখানে তার পরিবার ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তিনি শুধু মাটির মালিক থাকতে চান, জনগণকে কবরে পাঠিয়ে।

দেশের প্রতিটি মানুষই পুলিশী নজরদারীর মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, যেন কেউ সরকারবিরোধী আওয়াজ তুলতে না পারে। এটিই হচ্ছে অভিশপ্ত দুঃশাসনের নাৎসীবাদী দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে বহু ক্ষতির জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ-বলেন রিজভী।

কর্মসূচিগুলো হলো: সরকারের পরিকল্পিত হত্যা, খুনের শিকার এবং সম্প্রতি রিমান্ডে নিহত মিলনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় শক্রবার (১৬ মার্চ) বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ সারা দেশে বাদ জুমা মসজিদে-মসজিদে দোয়া মাহফিল। একই ইস্যুতে আগামী রবিবার (১৮ মার্চ) ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা - মহানগর সদরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিক্ষোভ মিছিল করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভুইয়া, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক্স ডাক্তার ও উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিলো টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসা শেষ করে রবিবার (১১ মার্চ) দেশে ফিরেছেন সাকিব। দেশে ফিরেই সোমবার (১২ মার্চ) অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র একাডেমি জিমনেশিয়াম ভবনে অনুশীলনে ব্যস্ত দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিব আল হাসনের সুস্থ হবার বিষয়ে গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে তার চিকিৎসা শেষ। সেখানকার চিকিৎসকরা তার আঙুলের ক্ষত সারাতে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। তাদের মতে আশা করা যায় আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে এবং তাড়াতাড়িই সে খেলায় ফিরতে পারবে।’

নিদাহাস ট্রফির আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সিদ্ধান্ত ছিল, সাকিব দলের সঙ্গে কলম্বোয় থাকবেন। অন্তত শেষ এক-দুটি ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু চোটের অগ্রগতি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। সাকিবের জায়গায় অধিনায়কত্বের ভার দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

তবে সাকিব পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানান, নিদাহাস ট্রফিতে দলের সাথে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন সাকিব। সব ঠিক থাকলে সাকিব খেলছেন নিদাহাস ট্রফির আগামীকালের সেমিফাইনালে!

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে লঙ্কার বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় হাতের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন সাকিব।

দেশের সর্বস্তরে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতার পর চার দশক আগেও গ্রাম মানেই ছিল জরাজীর্ণ ঘর-দুয়ার আর দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৮০ জনই ছিল দরিদ্র শ্রেণীর। কিন্তু এখন চিত্র পাল্টেছে। তবে এটি একদিনে হয়নি। দিনে দিনে একটু একটু করে বদলে গেছে বাংলাদেশ। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। মেঠো পথের বদলে পাকা সড়ক হয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গেও সরাসরি রচিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পিছিয়ে পড়া উত্তরবঙ্গ কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে সামনে চলে এসেছে বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর। এবার দক্ষিণ বঙ্গকেও যুক্ত করা হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মাধ্যমে।

যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত সেবার উন্নয়নে পরিবর্তন এসেছে কৃষিতেও। বর্গাচাষিদের জন্য বিনা জামানতে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন কৃষকরা। প্রায় এক কোটি কৃষকের আছে নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সত্তরের দশকে যেখানে গরু, হাল আর কাস্তে ছিল কৃষি উৎপাদনের অন্যতম হাতিয়ার, এখন সেখানে যান্ত্রিক কলের মাধ্যমে সেচ থেকে শুরু করে নিড়ানি, ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ফসল উৎপাদনেও কৃষকরা এখন ব্যবহার করছেন প্রযুক্তি। কোন ফসলে কী পরিমাণ সেচ দিতে হবে, কতটা সার লাগবে,
পোকা-মাকড় দমনে কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে সবই জানা যাচ্ছে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে। উৎপাদিত পণ্যের দামও জানা যাচ্ছে সহজে। জানা যাচ্ছে পণ্যের চাহিদা সম্পর্কেও।

হার-জিরজিরে হাড্ডিসার শরীরগুলো কাজের অভাবে না খেয়ে দিন কাটাত। বিশেষ অঞ্চলে ছিল মঙ্গা, ছিল অভাব-অনটন। সেই ছবিটা বদলে গেছে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে লেগেছে দিন বদলের ছোঁয়া। এখন গ্রামে আর কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। আছে টিনের ঘর, পাকা বাড়ি। হাড্ডিসার মুখগুলোও নেই। এর বদলে কর্মজীবী মানুষ আছে, পকেটে টাকাও আছে। ঘরে আছে রঙিন টেলিভিশন, ফ্রিজ। কারও আবার কম্পিউটার, তাতে জুড়ে দেওয়া ইন্টারনেট। ঘরে বসে এখন বাংলাদেশের কোনো এক প্রান্তের মানুষ হাতের মোবাইল টিপে মুহূর্তেই যোগাযোগ করছে প্রবাসের প্রিয়জনের সঙ্গে।

পেছনে চোখ ফেরানো যাক। স্বাধীনতার পর কেমন ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া এই বদ্বীপ অঞ্চলের দিনগুলো? ১৯৭৩-৭৪ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে খানা জরিপ করেছিল, সেই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, তখন একটি খানার (পরিবারের) মাসিক গড় আয় ছিল ৪৬৪ টাকা। গ্রামের একজন মানুষ দিনে গড়ে মাত্র ২৬ গ্রাম মাছ খেত, ৪ দশমিক ৯৩ গ্রাম মাংস খেতে পারত, ডিম খেতে পারত ১ দশমিক ১৬ গ্রাম। পরিবারগুলো খাদ্যের পেছনে ব্যয় করত তাদের মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।

তখনকার সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি। শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ ছিল দরিদ্র শ্রেণীর। মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বেশির ভাগ বাড়িতে ছিল কুঁড়েঘর ও মাটির দালান। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ছিল না বললেই চলে। নিরাপদ পানি ব্যবহারের হারও ছিল নগণ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিবর্তনের ছবিটি মিলিয়ে দেখা যাক। বর্তমানে এ দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭০
বছর।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত এক দশক থেকেই ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে সাম্প্রতিক বছরে ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে খানা বা পরিবারপ্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২৪ শতাংশে। একজন মানুষের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার গ্রাম। ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রায় অর্ধেক বাড়িঘর টিন ও কাঠের তৈরি। উপরন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে পাকা বাড়ি। প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানি পান করছে।

বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হারও। ২০১০ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯ ভাগ; ২০১৬ সালে এ হার বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ ভাগ। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে উপকারভোগী ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬ ভাগ; ২০১৬ সালে তা ২৮ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ২০১০ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ ছিল ঋণগ্রস্ত; ২০১৬ সালে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশে। ২০১০ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এমন পরিবার ছিল ৫৫ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৬ সালে বিদ্যুতের এ হার ৭৫ দশমিক ৯২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। যেসব এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ যায়নি, সেখানকার মানুষও পিছিয়ে নেই বৈদ্যুতিক সুবিধা থেকে। সৌরবিদ্যুতের সুবিধা নিয়ে তারাও এখন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার চালাচ্ছে।

কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের সাধারণ কৃষকের আয় বেড়েছে। অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃষক জড়িত হওয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। শাক-সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) তথ্য অনুসারে, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া পেয়ারা উৎপাদনে অবস্থান অষ্টম। আর মোট ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ তা-ই নয়, তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়ছে। পুরুষের পাশাপাশি এসব শিল্পে গ্রামের নারীরাও শ্রম দিচ্ছে।

বাঁশ, কাঠ ও বেতের তৈরি হস্তশিল্প, নকশি কাঁথা, পোশাকে অ্যাম্ব্রয়ডারি, টুপি বানানো, কাপড়ের পুতুলসহ ছোটদের খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন গ্রামের নারীশ্রেণি। এসব পণ্য আবার বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। শুধু কি তাই? বিদেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেও এখন রপ্তানি করছে বাংলার কৃষক। ২০১৬ সালে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪১ হাজার ৬৭৫টি এসএমই নারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিয়ের আগে প্রেম নিয়ে আর বিয়ের পড়ে তাদের ভালোবাসার খুনসুটি নিয়ে, খবরের যেন শেষ নেই। বলছিলাম বলিউড সুপারস্টার আনুশকা শর্মা আর ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির কথা। গত বছর ডিসেম্বরে তারা গাঁটছড়া বাঁধেন কিন্তু এর আগে থেকেই চুটিয়ে প্রেমের কাজটাও সেরে রেখেছেন তারা।

বিয়ে, বিয়ের পড়ে হানিমুন এরপরে তাদের সকল হলিডে বার্তা, সব যেন মিডিয়ার অগোচরে চলতেই থাকে। তবে এবার দেখা গেল ভিন্ন কিছু। ভিরাটের পোশাক পড়ে আনুশকার আগমন। ২০১৬ সালের এক অনুষ্ঠানে বিরাটকে যে পোশাকে দেখা গিয়েছিল, কাল এয়ারপোর্টে একই পোশাকে দেখা গেল আনুশকাকে।

বিরাটের সেই পোশাকের ছবি আর আনুশকার কালকের পোশাকের ছবি এক হয়ে যাওয়াতে ভক্তমহলে এ নিয়ে বার্তার শেষ নেই যেন! তাদের ভক্ত ফ্যানেরা এটাকে ভালোবাসা বলে চালিয়ে দিলেও অনেকে এর ট্রল করতেও ছাড়ে নি।

২০১৬ সালে একবার ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যালেন্টাইন্স ডে–র দিন আনুশকার সঙ্গে ছবি দিয়ে ফের নিজেদের সম্পর্কের কথাটা প্রকাশ্যে এনেছিলেন বিরাট। অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পরের দিনই ফের আনুশকার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন তিনি। এবারে অবশ্য প্রণয়ীর পাশেই জায়গা করে নিয়েছেন বিরাটের মা।

নারী দিবস উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবির কোলাজ পোস্ট করেছেন বিরাট। সেই কোলাজের এক অংশে মায়ের সঙ্গে হাসি মুখে বিরাটকে দেখা যাচ্ছে। আর অন্য অংশে আনুশকার সঙ্গে বিরাটের বেড়াতে যাওয়ার এক সেলফির দেখা মিলেছে।

শুধু ছবিই নয়, আবেগ মাখা চার লাইন লেখাও লিখেছেন বিরাট। ‘সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা। বিশেষত এই দু’‌জনকে, একজন আমার মা। জীবনের কঠিন সময়েও যিনি আমাদের পরিবারকে আগলে রেখেছেন। আরেকজন আনুশকা শর্মা, প্রতিদিন হাজার বাধা পেরিয়েও যে সৎ মানুষের ইচ্ছা ও মনকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে থেকেছে’।

বিভিন্ন সময় নিজের সামাজিক মাধ্যমে আনুশকার পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি, এবার এই ট্রলের জন্যও কোন উত্তর আসে কিনা, তাই দেখার পালা।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget