March 2018

রকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলায় জর্জরিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

তিনি ছাত্রদলের বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেবেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কারা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর তিন দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি নেই তারা নিজেরা যোগাযোগ করতে পারবেন।


উল্লেখ্য, গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন। এরপর একটি মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপির অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পুলিশ নির্যাতন করে মিলনকে হত্যা করেছে। আগামী রবিবার সারাদেশে বিএনপি বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে।

মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

মাদক দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিকে মোকাবেলা করতে হবে সমন্বিতভাবে। সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া মাদক নির্মূল কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স মাঠে মহানগর বিট পুলিশিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের আইজিপি এ কথা বলেন।

তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলন পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মারা গেছে এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। 

তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কারাগারে কোনো নির্যাতন করা হয়েছে কি না তা’ তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তিনি বলেন, পুলিশ একটি সুশৃংখল বাহিনী, এ বাহিনীর কোন অন্যায় অবহেলা মেনে নেয়া হবে না।

পরে তিনি একই স্থানে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন। 

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, তালুকদার আব্দুল খালেক ও মিজানুর রহমান মিজান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. লোকমান হোসেন মিয়া, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. দিদার আহম্মেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় শনাক্ত হওয়া নিহতদের লাশ কাল-পরশুর মধ্যেই দেশে ফিরবে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ মেডিকেল টিমের সদস্য ও ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) নেপালে অবস্থান করা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৩৫ জনের লাশ শনাক্তের কাজ শেষ করা হয়েছে। আশা করছি, আগামীকালের মধ্যে আমরা আমাদের কাজ শেষ করতে পারবো। কাজ শেষ হলেই পরদিন থেকে লাশ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

‘তবে, কিছু লাশ দেখে শনাক্ত করা যাচ্ছে না’ জানিয়ে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এই লাশগুলোর ডিএনএ প্রোফাইল করতে হবে। সেক্ষেতে আরও একটু সময় লাগতে পারে।’

নেপালে নিহত অনেকের স্বজন নেই, তাদেরটা কীভাবে শনাক্ত করবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নেপালে যাদের স্বজন নেই, তাদের ডিএনএ দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। আর যাদের স্বজন আছে দেশে ফিরে ডিএনএ দিয়ে যাবে।’

‘এ কারণে আট থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ডিএনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে আমরা দেশে যাবো সেখানে স্বজনদের এসে স্যাম্পল দিতে হবে। এক্ষেত্রে আরও কিছু প্রক্রিয়া আছে। যার কারণে সময় একটু লাগবে।’

দুর্ঘটনায় নিহতদের শনাক্তকরনের জন্য স্বজনদের রক্তের নমুনা মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে দেয়ার অনুরোধও জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের তদন্ত সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেছেন, ‘অতীতের বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাপ্রবাহ বিচারে ‘নেপাল ট্র্যাজেডি’ তদন্তে এক থেকে দেড় বছরও সময় লাগতে পারে। এছাড়া আইকার (আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন) নিয়ম অনুযায়ী এটাই তদন্তের নিয়ম।’

‘এ ঘটনার তদন্ত করবে নেপাল। আমাদের টিম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে’ বলে জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহরিনকে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তাকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এখন তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, ‘আহত শাহরিন আহমেদকে নেপাল থেকে আনার পর আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে। শাহরিনের পায়ে একটা ফ্র্যাকচার আছে। শরীরে বার্ন হয়েছে পাঁচ শতাংশ। তাকে সারিয়ে তোলা সম্ভব। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।’

প্রসঙ্গত, সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। এছাড়া এ ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি আহত হয়।

তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে পাশবিক অত্যাচারে হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এসময় তিনি ‘বিএনপি এখন দিশেহারা নয়, বেপরোয়া’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই- যাদের পায়ের নীচের মাটি থাকে না কেবল তারাই এমন কথা বলতে পারে। আপনাদের মনের ইচ্ছা কী তা আমরা ভাল করেই বুঝি। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেই আপনি প্রলাপ বকছেন।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম ও মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করে সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার রাষ্ট্রের সকল স্তম্ভ ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলেছে। এখন পরিকল্পিত নৈরাজ্য তৈরির জন্য ওবায়দুল কাদের সাহেবরা উস্কানি দিচ্ছেন। ভয়ঙ্কর কিছু দুর্ঘটনা সৃষ্টির পরিকল্পনার চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক বেহুঁশ হয়ে খাপছাড়া কথাবার্তা বলছেন- বলেন তিনি।

এদেশের সকল দুর্গতির জননীই হচ্ছেন শেখ হাসিনা মন্তব্য করে রিজভী বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) জনশুন্য এমন একটি দেশ চাচ্ছেন সেখানে তার পরিবার ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তিনি শুধু মাটির মালিক থাকতে চান, জনগণকে কবরে পাঠিয়ে।

দেশের প্রতিটি মানুষই পুলিশী নজরদারীর মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, যেন কেউ সরকারবিরোধী আওয়াজ তুলতে না পারে। এটিই হচ্ছে অভিশপ্ত দুঃশাসনের নাৎসীবাদী দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে বহু ক্ষতির জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ-বলেন রিজভী।

কর্মসূচিগুলো হলো: সরকারের পরিকল্পিত হত্যা, খুনের শিকার এবং সম্প্রতি রিমান্ডে নিহত মিলনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় শক্রবার (১৬ মার্চ) বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ সারা দেশে বাদ জুমা মসজিদে-মসজিদে দোয়া মাহফিল। একই ইস্যুতে আগামী রবিবার (১৮ মার্চ) ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় এবং সারা দেশে জেলা - মহানগর সদরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিক্ষোভ মিছিল করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভুইয়া, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক্স ডাক্তার ও উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিলো টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসা শেষ করে রবিবার (১১ মার্চ) দেশে ফিরেছেন সাকিব। দেশে ফিরেই সোমবার (১২ মার্চ) অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র একাডেমি জিমনেশিয়াম ভবনে অনুশীলনে ব্যস্ত দেশ সেরা এই অলরাউন্ডার।

সাকিব আল হাসনের সুস্থ হবার বিষয়ে গত ১১ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে তার চিকিৎসা শেষ। সেখানকার চিকিৎসকরা তার আঙুলের ক্ষত সারাতে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। তাদের মতে আশা করা যায় আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই সে সুস্থ হয়ে উঠবে এবং তাড়াতাড়িই সে খেলায় ফিরতে পারবে।’

নিদাহাস ট্রফির আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র সিদ্ধান্ত ছিল, সাকিব দলের সঙ্গে কলম্বোয় থাকবেন। অন্তত শেষ এক-দুটি ম্যাচ খেলবেন। কিন্তু চোটের অগ্রগতি না হওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। সাকিবের জায়গায় অধিনায়কত্বের ভার দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

তবে সাকিব পুরোপুরি সেরে উঠেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানান, নিদাহাস ট্রফিতে দলের সাথে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন সাকিব। সব ঠিক থাকলে সাকিব খেলছেন নিদাহাস ট্রফির আগামীকালের সেমিফাইনালে!

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে লঙ্কার বিপক্ষে ফিল্ডিং করার সময় হাতের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন সাকিব।

দেশের সর্বস্তরে এখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতার পর চার দশক আগেও গ্রাম মানেই ছিল জরাজীর্ণ ঘর-দুয়ার আর দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত জীবনের প্রতিচ্ছবি। ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৮০ জনই ছিল দরিদ্র শ্রেণীর। কিন্তু এখন চিত্র পাল্টেছে। তবে এটি একদিনে হয়নি। দিনে দিনে একটু একটু করে বদলে গেছে বাংলাদেশ। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনেও লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। মেঠো পথের বদলে পাকা সড়ক হয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গেও সরাসরি রচিত হয়েছে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পিছিয়ে পড়া উত্তরবঙ্গ কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে সামনে চলে এসেছে বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর। এবার দক্ষিণ বঙ্গকেও যুক্ত করা হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মাধ্যমে।

যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত সেবার উন্নয়নে পরিবর্তন এসেছে কৃষিতেও। বর্গাচাষিদের জন্য বিনা জামানতে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন কৃষকরা। প্রায় এক কোটি কৃষকের আছে নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে সত্তরের দশকে যেখানে গরু, হাল আর কাস্তে ছিল কৃষি উৎপাদনের অন্যতম হাতিয়ার, এখন সেখানে যান্ত্রিক কলের মাধ্যমে সেচ থেকে শুরু করে নিড়ানি, ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে। ফসল উৎপাদনেও কৃষকরা এখন ব্যবহার করছেন প্রযুক্তি। কোন ফসলে কী পরিমাণ সেচ দিতে হবে, কতটা সার লাগবে,
পোকা-মাকড় দমনে কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করতে হবে সবই জানা যাচ্ছে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে। উৎপাদিত পণ্যের দামও জানা যাচ্ছে সহজে। জানা যাচ্ছে পণ্যের চাহিদা সম্পর্কেও।

হার-জিরজিরে হাড্ডিসার শরীরগুলো কাজের অভাবে না খেয়ে দিন কাটাত। বিশেষ অঞ্চলে ছিল মঙ্গা, ছিল অভাব-অনটন। সেই ছবিটা বদলে গেছে। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে লেগেছে দিন বদলের ছোঁয়া। এখন গ্রামে আর কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। আছে টিনের ঘর, পাকা বাড়ি। হাড্ডিসার মুখগুলোও নেই। এর বদলে কর্মজীবী মানুষ আছে, পকেটে টাকাও আছে। ঘরে আছে রঙিন টেলিভিশন, ফ্রিজ। কারও আবার কম্পিউটার, তাতে জুড়ে দেওয়া ইন্টারনেট। ঘরে বসে এখন বাংলাদেশের কোনো এক প্রান্তের মানুষ হাতের মোবাইল টিপে মুহূর্তেই যোগাযোগ করছে প্রবাসের প্রিয়জনের সঙ্গে।

পেছনে চোখ ফেরানো যাক। স্বাধীনতার পর কেমন ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া এই বদ্বীপ অঞ্চলের দিনগুলো? ১৯৭৩-৭৪ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে খানা জরিপ করেছিল, সেই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, তখন একটি খানার (পরিবারের) মাসিক গড় আয় ছিল ৪৬৪ টাকা। গ্রামের একজন মানুষ দিনে গড়ে মাত্র ২৬ গ্রাম মাছ খেত, ৪ দশমিক ৯৩ গ্রাম মাংস খেতে পারত, ডিম খেতে পারত ১ দশমিক ১৬ গ্রাম। পরিবারগুলো খাদ্যের পেছনে ব্যয় করত তাদের মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ।

তখনকার সময়ে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি। শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ ছিল দরিদ্র শ্রেণীর। মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৬ বছর। বেশির ভাগ বাড়িতে ছিল কুঁড়েঘর ও মাটির দালান। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ছিল না বললেই চলে। নিরাপদ পানি ব্যবহারের হারও ছিল নগণ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিবর্তনের ছবিটি মিলিয়ে দেখা যাক। বর্তমানে এ দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭০
বছর।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত এক দশক থেকেই ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে সাম্প্রতিক বছরে ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সর্বশেষ খানা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে খানা বা পরিবারপ্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২৪ শতাংশে। একজন মানুষের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার গ্রাম। ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের প্রায় অর্ধেক বাড়িঘর টিন ও কাঠের তৈরি। উপরন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে পাকা বাড়ি। প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানি পান করছে।

বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হারও। ২০১০ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯ ভাগ; ২০১৬ সালে এ হার বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ ভাগ। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে উপকারভোগী ২০১০ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৬ ভাগ; ২০১৬ সালে তা ২৮ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ২০১০ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ ছিল ঋণগ্রস্ত; ২০১৬ সালে এ হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশে। ২০১০ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এমন পরিবার ছিল ৫৫ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৬ সালে বিদ্যুতের এ হার ৭৫ দশমিক ৯২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। যেসব এলাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ যায়নি, সেখানকার মানুষও পিছিয়ে নেই বৈদ্যুতিক সুবিধা থেকে। সৌরবিদ্যুতের সুবিধা নিয়ে তারাও এখন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার চালাচ্ছে।

কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামের সাধারণ কৃষকের আয় বেড়েছে। অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃষক জড়িত হওয়ায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। শাক-সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) তথ্য অনুসারে, আম উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া পেয়ারা উৎপাদনে অবস্থান অষ্টম। আর মোট ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন শুধু খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ তা-ই নয়, তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। কৃষির পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমেও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়ছে। পুরুষের পাশাপাশি এসব শিল্পে গ্রামের নারীরাও শ্রম দিচ্ছে।

বাঁশ, কাঠ ও বেতের তৈরি হস্তশিল্প, নকশি কাঁথা, পোশাকে অ্যাম্ব্রয়ডারি, টুপি বানানো, কাপড়ের পুতুলসহ ছোটদের খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন গ্রামের নারীশ্রেণি। এসব পণ্য আবার বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। শুধু কি তাই? বিদেশি কৃষিপণ্য উৎপাদন করেও এখন রপ্তানি করছে বাংলার কৃষক। ২০১৬ সালে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪১ হাজার ৬৭৫টি এসএমই নারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিয়ের আগে প্রেম নিয়ে আর বিয়ের পড়ে তাদের ভালোবাসার খুনসুটি নিয়ে, খবরের যেন শেষ নেই। বলছিলাম বলিউড সুপারস্টার আনুশকা শর্মা আর ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির কথা। গত বছর ডিসেম্বরে তারা গাঁটছড়া বাঁধেন কিন্তু এর আগে থেকেই চুটিয়ে প্রেমের কাজটাও সেরে রেখেছেন তারা।

বিয়ে, বিয়ের পড়ে হানিমুন এরপরে তাদের সকল হলিডে বার্তা, সব যেন মিডিয়ার অগোচরে চলতেই থাকে। তবে এবার দেখা গেল ভিন্ন কিছু। ভিরাটের পোশাক পড়ে আনুশকার আগমন। ২০১৬ সালের এক অনুষ্ঠানে বিরাটকে যে পোশাকে দেখা গিয়েছিল, কাল এয়ারপোর্টে একই পোশাকে দেখা গেল আনুশকাকে।

বিরাটের সেই পোশাকের ছবি আর আনুশকার কালকের পোশাকের ছবি এক হয়ে যাওয়াতে ভক্তমহলে এ নিয়ে বার্তার শেষ নেই যেন! তাদের ভক্ত ফ্যানেরা এটাকে ভালোবাসা বলে চালিয়ে দিলেও অনেকে এর ট্রল করতেও ছাড়ে নি।

২০১৬ সালে একবার ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যালেন্টাইন্স ডে–র দিন আনুশকার সঙ্গে ছবি দিয়ে ফের নিজেদের সম্পর্কের কথাটা প্রকাশ্যে এনেছিলেন বিরাট। অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পরের দিনই ফের আনুশকার উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন তিনি। এবারে অবশ্য প্রণয়ীর পাশেই জায়গা করে নিয়েছেন বিরাটের মা।

নারী দিবস উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবির কোলাজ পোস্ট করেছেন বিরাট। সেই কোলাজের এক অংশে মায়ের সঙ্গে হাসি মুখে বিরাটকে দেখা যাচ্ছে। আর অন্য অংশে আনুশকার সঙ্গে বিরাটের বেড়াতে যাওয়ার এক সেলফির দেখা মিলেছে।

শুধু ছবিই নয়, আবেগ মাখা চার লাইন লেখাও লিখেছেন বিরাট। ‘সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা। বিশেষত এই দু’‌জনকে, একজন আমার মা। জীবনের কঠিন সময়েও যিনি আমাদের পরিবারকে আগলে রেখেছেন। আরেকজন আনুশকা শর্মা, প্রতিদিন হাজার বাধা পেরিয়েও যে সৎ মানুষের ইচ্ছা ও মনকে গুরুত্ব দিয়ে পাশে থেকেছে’।

বিভিন্ন সময় নিজের সামাজিক মাধ্যমে আনুশকার পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি, এবার এই ট্রলের জন্যও কোন উত্তর আসে কিনা, তাই দেখার পালা।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ২৩ জন রুশ কূটনীতিকে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা দেবার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন উঠছে ব্রিটেন কেন এতো কূটনীতিক একসাথে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে?

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন , ঐ ২৩ জন কূটনীতিক প্রকৃতপক্ষে গোয়েন্দা কর্মকর্তা, এবং তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিটেন ছেড়ে যেতে হবে।

অন্যদিকে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ অভিযোগ করেছেন, ব্রিটেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

ব্রিটেনের এরকম পদক্ষেপ রাশিয়ার সাথে তাদের সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক জিল্লুর রহমান খান মনে করেন, ব্রিটেন বুঝতে পেরেছে এর মাধ্যমে আমেরিকার সাথে ভালো সম্পর্ক হবে। রাশিয়ার সাথে কোন কাজ হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্রিটেনের প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি আছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কানাডার সাথে ব্রিটেনের ভালো সম্পর্ক আছে। আমেরিকার সাথে যদি ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে তাহলে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা অন্যদের প্রয়োজন নেই।

আমার তো মনে হয় পুতিন এবার বলবে যে এদের ব্যাপারে তাঁর কোন হাত ছিল না। পুতিন এবং ট্রাম্প কেউ কারো চেয়ে কম নয়, তিনি বলেন।

রাশিয়ার কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার পেছনে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আমেরিকার সমর্থন ছিল বলে তিনি মনে করেন। কূটনীতিক বহিষ্কারের লড়াই নতুন কিছু নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সাথে এক ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলার জন্য আমেরিকার নেতৃত্বে সামরিক জোট ন্যাটো গঠন করা হয়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেল। পুতিন চাচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়ন যে রকম সুপার পাওয়ার ছিল, আবার সে অবস্থায় ফিরে যেতে।

এমন অবস্থায় ব্রিটেন, আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে রাশিয়াকে মোকাবিলা করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে রাশিয়ার উপর নানা ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। চীন এবং রাশিয়া থেকে যেসব পণ্য আমেরিকার বাজারে আসে সেগুলোর উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা আছে।

সাবেক অধ্যাপক জিল্লুর রহমান মনে করেন, রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি নিয়ে আমেরিকার উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

অনেকেই বলছেন, এতে আভাস পাওয়া যায় - রুশ-মার্কিন সম্পর্ক উষ্ণ হবার কোন আশু সম্ভাবনা এখন আর নেই।

যেভাবে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের কথা বলছে, তাতে অনেকেই স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের কথা মনে করে উদ্বিগ্ন বোধ করবেন।

জিল্লুর রহমান বলছেন, দেশের ভেতরে পুতিনের বেশ জনপ্রিয়তা আছে।

তাঁর রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, রাশানরা (রাশিয়ার মানুষ) পুতিনকে যে সাপোর্ট দেয় সেটা আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না। কারণ রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ মনে করে পুতিনের মাধ্যমে তারা আবার সুপার পাওয়ার হবে।

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমাটির মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গণে পা রাখেন তাসকিন। এ সিনেমায় খল অভিনেতা হিসেবে তাসকিন ব্যাপক প্রশংসা পান। 

সিনেমাটি মুক্তির পর সবাইকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাসকিন। খল চরিত্রে অভিনয় করে মুগ্ধ করেছেন অসংখ্য দর্শকে। 

নেতিবাচক চরিত্রে হলেও তার অভিনয়ের প্রেমে পড়েছেন অনেকেই। কিন্তু তাকে আর খল চরিত্রে দেখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তাসকিন।

এ বিষয়ে তাসকিন একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আর খল চরিত্রে নয়। এখন থেকে ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করব। নেতিবাচক চরিত্রে আর অভিনয় করব না।’

তাসকিন জানিয়েছেন, ‘মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘যদি একদিন’ ছবিতে পুরোপুরি ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছি। এই ছবিতে প্যারালাল চরিত্রে অভিনয় করছি।’

তিনি বলেন, ‘দর্শক ইতিবাচক চরিত্রেও আমাকে গ্রহণ করবেন। এমনটাই আশা করছি। তাই এরপর থেকে আর চাচ্ছি না খল চরিত্রে অভিনয় করতে।’

এখন তাসকিন বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘সুলতান’-এ খল চরিত্রে অভিনয় করছেন। এতে টালিউডের সুপারস্টার জিতের সাথে টেক্কা দিচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে তাসকিন জানান, ‘সুলতান’ সিনেমাটিতে আমি খল চরিত্রে অভিনয় করছি। এই সিনেমাটিও করা হতো না। সিনেমাটির প্রযোজক আজিজ ভাইয়ের সাথে আগে থেকেই কথা ছিল। এ ছাড়া এর গল্পটি আমার ভালো লেগেছে, তাই কাজটি করলাম।

উল্লেখ্য, ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমা দিয়ে শোবিজ জগতে পা রাখলেও এছাড়া তাসকিন অভিনয় করেছেন ‘মৃত্যুপুরী’, ‘আদি’ ও ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ নামে ছবিগুলোতে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতে মেডিকেল টিম পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নেপাল যাবেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন- ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুৎফর কাদের লেলিন, সহকারি অধ্যাপক ডা. হোসাইন ইমরান, ডা. মনসুর রহমান, ডা. মুশফিকুর রহমান, ডা. রিয়াদ মজিদ, ডা. একেএম ফেরদৌস রহমান ও ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি নেপালের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে ৪ ক্রুসহ ৭১ আরোহী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। 

এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন। যার মধ্যে ২৬ বাংলাদেশী, নেপালি ২৪ ও একজন চীনা নাগরিক রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন ১০, নেপালি ৯ ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘ইউএস-বাংলা’ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের স্মরণে আজ (১৫ মার্চ) রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে গতকাল (১৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ (বিএস ২১১) বিধ্বস্ত হয়ে হতাহত হওয়ার ঘটনায় এই রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। শোক পালনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে।

রাষ্ট্রীয় শোক পালন ছাড়াও নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভে শুক্রবার (১৬ মার্চ) দোয়া মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি নেপালের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।

 আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নেপালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে ৪ ক্রুসহ ৭১ আরোহী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত হন।

 যার মধ্যে ২৬ বাংলাদেশী, নেপালি ২৪ ও একজন চীনা নাগরিক রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে বাংলাদেশী রয়েছেন ১০, নেপালি ৯ ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।

নেপালে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে এতে পাইলটদের কোন ত্রুটি দেখছে না বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা। আপাতত তারা এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছে।

বুধবার (১৪ মার্চ) বিকালে রাজধানীর বারিধারায় ইউএস বাংলার কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সব কথা বলেন। এর আগে দুপুরেও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিল ইউএস বাংলা।

‘কোনো রকমের দুর্ঘটনা ছাড়াই গত সাড়ে তিন বছরে ৩৬ হাজার ফ্লাইট আমরা পরিচালনা করেছি’ উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনদিনের পর্যবেক্ষণে কাঠমান্ডুর ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছি আমরা। এতে পাইলটদের কোন ত্রুটি ছিলনা। তবে তদন্ত হচ্ছে, শেষ হলেই বিস্তারিত জানা যাবে।’

‘বর্তমানে কাঠমান্ডুতে আমাদের দুই জন চিকিৎসক আছেন। দুই একদিনের মধ্যে সাত-আট জনের আরেকটি মেডিকেল টিম পাঠানো হবে। এছাড়াও বুধবার রাতে ইউএস বাংলার তত্বাবধানে ড. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। দরকার পড়লে বাকিদেরকেও আমরা নিয়ে যাবো’ বলেও জানান কামরুল ইসলাম।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে নেপাল যাবে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল টিম বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন।



এ দলের নেতৃত্ব দেবেন- বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুৎফর কাদের লেলিন। অন্য সদস্যরা হলেন- বার্ন ইউনিটের ডা. হোসেন ইমাম, ডা. মনসুর রহমান, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের ডা. মুশফিকুর রহমান লিটন, ডা. রিয়াদ মজিদ, ঢামেক হাসপাতালের ফেরদৌস রহমান ও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ত্রিভুবন বিমানবন্দরের টাওয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছয়জন কর্মকর্তাদের নিশ্চয় কোনো ব্যর্থতা ছিল নয়তো এদের বদলি করার কোনো সুযোগ দেখি না। এছাড়াও এয়ারক্রাফটের ব্ল্যাকবক্স থেকেও কিছু জানা যাবে।’

এছাড়াও ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটে আমাদের ফ্লাইট পরিচালনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা। তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলেও জানান মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১২ মার্চ) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমানটি ৬৭ জন যাত্রী, দু’জন ক্রু নিয়ে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হন। আহত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন ৯ বাংলাদেশিসহ ২১ জন।

লতি মাসেই শাকিব খান ও নায়িকা শবনম বুবলী জুটির নতুন ছবি ‘আমার স্বপ্ন আমার দেশ’ এর শুটিং শুরু হবার কথা ছিলো। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্বে আসছেন নির্মাতা কাজী হায়াত। কিন্তু হঠাৎ করেই নির্মাতা অসুস্থ হওয়াতে পিছিয়ে গেলো শাকিব-বুবলীর নতুন ছবি।

ছবিটি প্রযোজনা করছে শাপলা মিডিয়া। শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান জানান, দুদিন আগে পরিচালক কাজী হায়াৎ সাহেব যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা উনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফিরতে মাসখানেক সময় লাগবে। যে কারণে আমরা শাকিব ও বুবলীর ‘আমার স্বপ্ন আমার দেশ’ ছবির শুটিং পিছিয়েছি। আগামী ২৩ তারিখ যে মহরত ও শুটিং করার কথা, তা এখন পিছিয়ে দিতে হচ্ছে।

কবে থেকে শুরু হবে ‘আমার স্বপ্ন আমার দেশ’ ছবির শুটিং—জানতে চাইলে সেলিম খান বলেন, ‘এখনই আমরা সঠিক তারিখ বলতে পারছি না। তবে সবকিছু গুছিয়ে রেখেছি। হায়াৎ সাহেব সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলে শাকিব খানের শিডিউল মেলাতে হবে। সব মিলিয়ে আমরা নতুন তারিখ ঠিক করব।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে কাজী হায়াতের হৃৎপিণ্ডে চারটি রিং পরানো হয়। ঠিক এক বছর পর ২০০৫ সালে ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ করা হয়। আবারও হৃৎপিণ্ডে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।


রিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মা সাহেরা বেগম না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রীর পিআরও হাজী তৌহিদুল ইসলাম।

বুধবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কুমিল্লার মিডল্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে সাহেরা বেগম তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বশেষে কলম্বোর আকাশের কান্না আজ দেখা গেল না। নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হলো টস। টসে জিতে রোহিত শর্মার ভারতকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন টাইগার ক্যাপ্টেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে।

নিদাহাস ট্রফি টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে হারের পর পরবর্তী দুই ম্যাচে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে রোহিত শর্মার ভারত। বৃষ্টিবিঘ্নিত সর্বশেষ ম্যাচেও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ভারতের দলটি অভিজ্ঞতায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তবে সকলের প্রত্যাশা, তাদের হারিয়ে মাহমুদ উল্লাহ বাহিনী আজ আবারও নাগিন নৃত্যে মাঠ মাতাবে।

ভারতের বিপক্ষে ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। দুই বছর আগে ৩ বলে ২ রান নিতে না পারার ক্ষত এখনও দগদগে ঘা হয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে হারলেও মুশফিক-রিয়াদদের আজ ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন রবিবার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এই সময়ের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের আবেদন করতে বলেছেন আদালত। 

হাইকোর্টের দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আজ বুধবার সকালে এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। খালেদার পক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। 

খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে তিনি রবিবার পর্যন্ত কারামুক্ত হতে পারছেন না। যদিও মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের কপি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

আগে দুই বিচারপতি জামিন আদেশে স্বাক্ষর করেন। সিএমএম কোর্ট জামিন আদেশ গ্রহণের পর এর কপি কারাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত করায় এখন আর সেটি হচ্ছে না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। 

একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সবাইকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

নেপালে কাঠমান্ডু ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে ফ্লাইট বিএস২১১ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার মসজিদ-মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে দোয়া-প্রার্থনা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস ২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দুর্ঘটনায় পড়ে। বিমানবন্দরের এটিসি টাওয়ারের দেওয়া ভুল অবতরণ বার্তার জেরে আকাশে অপেক্ষা করতে থাকে বিমানটি।

পরে ৬৭ যাত্রী ও চার ক্রুসহ দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ।

খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর নেই। ৭৬ বছরে বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন এই বিজ্ঞানী। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।

ব্ল্যাক হোল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছিলেন স্টিফেন হকিং। এছাড়াও তিনি তার বিখ্যাত বই ‘এ ব্রিফ স্টোরি অব টাইম’ এর জন্য অমর হয়ে থাকবেন।

হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট এবং টিম বলেন, ‘আমাদের বাবা আচমকাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি ছিলেন মহান বিজ্ঞানী এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন।’

স্টিফেন হকিংয়ের পুরো নাম স্টিভেন উইলিয়াম হকিং। তার জন্ম ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। বিশিষ্ট ইংরেজ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র পরিচিত ব্যক্তিত্ব তিনি। তাকে বিশ্বের সমকালীন তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক (স্যার আইজ্যাক নিউটনও একসময় এই পদে ছিলেন। ২০০৯ সালে ওই পদ থেকে অবসর নেন তিনি।

এছাড়াও তিনি কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল ছিলেন। তিনি মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।


প্রায় ৪০ বছর ধরে হকিং তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা করেছেন। লিখিত পুস্তক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির থেকে হকিং একাডেমিক জগতে যথেষ্ট খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন।

তিনি রয়েল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো। এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে তাকে নিয়ে একটি মুভি তৈরি হয়, ‘নাম থিওরি অব এভরিথিং’।

সাবেক পর্ন অভিনেত্রী সানি লিওন বলিউডে পা রাখার শুরুর দিকেই তার সাথে বলিউড অভিনেত্রী রাখি সবন্তের সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছে। রাখি একাধিকবার সানি লিওন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু তাতে কোনো সময়ই কান দেননি সানি লিওন।

অন্যদিকে রাখিও সানির বিরুদ্ধে নতুন নতুন অভিযোগ হাজির করছে। এবার সানি সম্পর্কে আরেক অভিযোগ আনলেন তিনি।খবর এবেলাডটইনের।

রাখি সবন্তের অভিযোগ করেছেন, সানি লিওন নাকি রাখি সবন্তের ফোন নম্বর অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি গণমাধ্যমের কাছে সানি লিওন সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন রাখি সবন্ত।

রাখি বলেন, ‘সানি আমার ফোন নম্বর অ্যাডাল্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রায়ই আমার কাছে ফোন
কল আসছে। এবং ফোন করে আমার ভিডিও ও মেডিকেল সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ফোন করে আমাকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রস্তাবও দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি মোটেই এ রকমের কাজে আগ্রহী নই। রাখি এও বলেন, আমি মরে যাব, তবুও এই জগতে পা বা প্রবেশ করব না।

আমি মন থেকে ভারতীয় এটা উল্লেখ করে রাখি আরো বলেন, আমি একজন ভারতীয় নারী আর আমি আমাদের সংস্কৃতির মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত।

কিন্তু রাখি কীভাবে এতোটা নিশ্চিত যে, তার ফোন নম্বরটি সানি লিওনই দিয়েছেন? এমন প্রশ্ন সবার মনে।

রাখি সবন্ত বলেন, আমার ফোন নম্বর কীভাবে পেয়েছেন জিজ্ঞাসা করায়, ফোন কল করা ওরাই সানি লিওনের নাম নিয়েছে।

বুধবার (১৪ মার্চ) নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে টিম টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারের পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া পাহাড়সম ২১৫ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় ভারত। বাংলাদেশও চায় ফাইনাল পথে এগিয়ে যেতে।

তবে শ্রীলঙ্কায় আবহাওয়াটা বর্তমানে একটু খারাপই বলা চলে। হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামছে। আর সেই প্রভাব পড়ছে নিদাহাস ট্রফির ম্যাচগুলোতেও। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচের আগে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের অনুশীলনেও হয়নি তেমনটি। আর এ রকম আবহাওয়ায় টসটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এমনটা মনে করছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কেননা, চলতি সিরিজের ৪টি ম্যাচেই টস জয়ী দলটা জিতেছে। শুধু টস জয় নয়, ম্যাচ জেতা দল ব্যাটও করেছে দ্বিতীয় ইনিংসে। আর সব মিলিয়ে তাই টসটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ টস নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘এমন আবহাওয়ায় টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকে বোলাররা একটু সুবিধা পান। কিন্তু পরের দিকে ব্যাট করা খুব সহজ হয়ে যায়। এমনিতেই এটা ব্যাটিং উইকেট। সাধারণত এখানে যারা পরে ব্যাট করেছে তারাই জিতেছে।’

মাহমুদউল্লাহ আরো বলেন, ‘গতকাল (১২ মার্চ) প্র্যাকটিস হয়নি, আজও (১৩ মার্চ) একই অবস্থা। প্র্যাকটিস হলে অবশ্যই ভালো হতো। কিন্তু কিছু তো করার নেই। দেখি আবহাওয়া ভালো হয় কি না। ভালো হলে আজ (১৩ মার্চ) পরের দিকে একটা সেশন প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করব।’

তাই বলা চলে প্রস্তুতির ঘাটতি এবং আবহাওয়ার বিরুদ্ধাচরণ- এই দুটি সমস্যা নিয়েই বুধবার (১৪ মার্চ) ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলম্বোর প্রেমাদাসায় শুরু হবে নিদাহাস ট্রফির চতুর্থ ম্যাচটি।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ :
১. তামিম ইকবাল ২. লিটন কুমার দাস ৩. সৌম্য সরকার ৪. মুশফিকুর রহিম ৫. মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬. আরিফুল হক ৭. মেহেদী হাসান ৮. মুস্তাফিজুর রহমান ৯. তাসকিন আহমেদ/আবু জায়েদ ১০. রুবেল হোসেন ১১. নাজমুল ইসলাম অপু।

জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। দুদকের করা সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দুদক রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে এই সময়ের মধ্যে লিভ টু আপিলের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) জামিন স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। এর আগে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীরা পৃথকভাবে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন।

কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি-ডব্লিউ) ইস্যু করেন আদালত। শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, চেম্বার আদালত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেননি। আমরা আশা করি আপিল বিভাগেও তার জামিন বহাল থাকবে।

এদিকে কুমিল্লার মামলায় জামিন না নিয়ে খালেদা জিয়ার কারামুক্তির কোনো অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গতকাল বিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কুমিল্লার গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যার মামলায় তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মামলাতেও উনি আসামি। কাস্টডি ওয়ারেন্ট (সি-ডব্লিউ) দেয়ার অর্থ হলো কুমিল্লার মামলাতেও তিনি অবরুদ্ধ আছেন বলে ধরে নিতে হবে। সেই মামলাতেও তিনি জেলে আছেন বলে ধরতে হবে। কাজেই ওই মামলাতেও তাকে জামিন না নিয়ে খালাস (কারামুক্তি) হওয়ার কোনো অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।

শিউর দিপু, বরিশাল থেকে: বরিশালে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিবিসি’র ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসানকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তার উপর চড়াও হয় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। এ সময় প্রকাশ্যে তার পড়নে থাকা টি শার্ট টেনে হিচড়ে এবং পেটাতে পেটাতে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।

পথিমধ্যে তার অন্ডকোষ চেপে ধরাসহ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ সাংবাদিক সুমনের। এছাড়া সাংবাদিক ও তাদের পরিবার নিয়েও নানা অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয় বলে জানান সুমন। এ ঘটনায় প্রতিবাদী সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে ওই ঘটনার সাথে জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের ৮ সদস্যকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে নগরীর বিউটি রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ডিবিসি’র নির্যাতিত ক্যামেরাপার্সন সুমন হাসান জানান, দুপুর ২টার দিকে অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এক নিকটাত্মীয়কে গোয়েন্দা পুলিশে আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশের কাছে পুরো বিষয়টি জানতে চান। এ সময় যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ তার পরিচয় জানতে চায়।

খবর পেয়ে তার সহকর্মীরা নগরীর পলিটেকনিক রোডে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে যায়। সেখানে নির্যাতিত সাংবাদিক সুমনকে হাতকড়া পড়িহিত অবস্থায় কাঁদতে দেখে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন অন্যান্য সাংবাদিকরা। এ সময় সাংবাদিক সুমনকে নির্যাতনকারী প্রধান অভিযুক্ত কনস্টেবল মাসুদ একজন সাংবাদিককে লাথি দেয়। এতে সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন।

পরে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিন) গোলাম রউফ খান সাংবাদিকদের শান্ত করে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সকল সাংবাদিকের দাবির প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মোতাবেক নগর গোয়েন্দা পুলিশের ওই দলে থাকা ৮ সদস্যকে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজড) সহ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার গোলাম রউফ খান। একই সাথে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের পক্ষে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার উত্তম কুমার পাল বলেন, ওই দলে থাকা এসআই আবুল বাশার, এএসআই স্বপন ও আক্তার এবং কনস্টেবল মাসুদ, রাসেল, হাসান, রহিম ও সাইফুলকে তাৎক্ষনিক মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু এমপি-মন্ত্রীরা। নিচে সেই প্রতিক্রিয়াগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার জামিনে প্রমাণ হয়েছে মামলায় ও আদালতের ওপর সরকার এবং আওয়ামী লীগের কোন হস্তক্ষেপ নেই।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জামিনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে এতো হাইপ্রোফাইল মামলা হওয়া সত্বেও আইন, আদালত এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এখানে সরকারের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ছিল না এবং নেই।’

আদালত বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনা করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর মামলা পরিচালনার পর রায় দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই। শুধু এই মামলায় নয়। সরকার এ পর্যন্ত কোন প্রকারের মামলাতেই হস্তক্ষেপ করছে না, করেও নি।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। খালেদা জিয়ার জামিনে তা প্রমাণিত। তার রায় নিয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করেছিল। আমরা আগেও বহুবার দেখেছি আদালত বিএনপির প্রতি সবসময়ই সদয়। 


এছাড়া, আমরা বারবার বলেছি সরকার এই বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করেনি। আমরা চাই আদালত এগিয়ে যাবে। তার মত করে কাজ করবেন।

চার মাসের জামিন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কারো চাপ নেই। আদালত তাকে জামিন দিয়েছে। তিনি দুর্নীতির দায়ে কারাবরণ করেছিলেন। এটা প্রমাণিত।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সরকার বিচার কাজে হস্তক্ষেপ করে না, খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিনের মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি নেতারা সারাদেশে বলে বেড়াচ্ছিলেন আমরা নাকি আদালতে ইন্টারফেয়ার (হস্তক্ষেপ) করছি বলে বেইলটা (জামিন) হচ্ছে না। আজকে প্রমাণিত হলো, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এবং বিচার কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করে না।

তিনি বলেন, আগে সবসময় থাকত রাষ্ট্র বনাম আসামি। ২০০৪ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল দুর্নীতি দমন আইন পাস করা হয়েছিল। ২০০৭ পর্যন্ত যেটার কোনো কার্যক্রম হয়নি। সেই দুর্নীতি দমন আইনে বলা আছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবে পক্ষ, রাষ্ট্র উইল বি দ্য সেকেন্ড পার্ট। তাহলে এখন দাঁড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন বনাম আসামি খালেদা জিয়া। এরপর কর্মপন্থা বা কী করবেন সেই সিদ্ধান্ত তারা নেবে দুদক। এটা সরকারের ব্যাপার নয়।

সোমবার (১২ মার্চ) ও মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় তারা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সিঙ্গাপুরে সরকারি সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (১৪ মার্চ) তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে বিকেলে শেখ হাসিনা ঢাকা ফিরবেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিট) প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে সফর সঙ্গীদের নিয়ে চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সিঙ্গাপুরের সিনিয়র মিনিস্টার অব স্টেট ড. অ্যামি খোর এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০৮৫ ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে তিনি ঢাকায় অবতরণ করেন।

এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি দেশে ফিরবেন।

বিমান দুর্ঘটনার পরপরই শেখ হাসিনা নেপালের প্রধানমন্ত্রী খাড়গা প্রসাদ শর্মা ওলির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও আহতদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে গত রবিবার (১১ মার্চ) সিঙ্গাপুরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া চার মাসের জামিন স্থগিত করেননি চেম্বার আদালত। বরং হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের দেয়া জামিন আটকাতে চেম্বার আদালতে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ‘নো অর্ডার’ দিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

আগামীকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অংশ নেন মওদুদ আহমেদ, এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, চেম্বার জজ জামিন স্থগিত করেননি। শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়েছেন। এতে করে তাঁর (খালেদা জিয়া) জামিন বহাল থাকলো।

প্রসঙ্গত, দুদক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকে জামিন স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার চেম্বার আদালতে আলাদা আবেদন করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে গত ৩২ দিন ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

নিম্ন আদালত থেকে ওই মামলার নথি হাইকোর্টে আসার পর তা দেখে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে চার মাসের জামিন মঞ্জুর করে। সেই সঙ্গে তার আপিল শুনানির জন্য ওই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে পেপারবুক তৈরি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাইকোর্ট চারটি যুক্তিতে জামিন মঞ্জুর করেন।

এগুলো হলো- ১. নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে, এ সাজায় হাইকোর্টে জামিনের রেওয়াজ আছে। সে বিবেচনায় তিনি জামিন পেতে পারেন। ২. বিচারিক আদালতের নথি এসেছে, কিন্তু আপিল শুনানির জন্য এখনও প্রস্তুত হয়নি। ফলে আসামি জামিনের সুবিধা পেতে পারেন। ৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন; এর অপব্যবহার করেননি। আদালতে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। ৪. বয়স এবং বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেয়া যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম সোমবারই বলেছিলেন, তারা হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধ চেম্বার আদালতে যাবেন।

অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের বিরুদ্ধে কালো ব্যাজ পরে খেলতে নামবে টাইগাররা। নেপালে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জন নিহতের ঘটনার শোকে কালো ব্যাজ পরে মাঠে নামার সিধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম।

এর আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন ক্রিকেটাররা

সাকিব আল হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, খবরটি জানতে পেরে ভীষণ মর্মাহত! ক্ষতিগ্রস্থ সকলের উদ্দেশ্যে জানাই আমার আর শিশির এর গভীর সমবেদনা। আহত সবার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং মহান সৃষ্টিকর্তা যেন এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে তাদের পরিবারের সদস্যদের সাহস যোগায়, সেই প্রার্থনা করছি!

বিধ্বস্ত বিমানের ছবি দিয়ে ফেসবুকে মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।

টুইটারে তামিম ইকবাল লিখেছেন, বিএস ২১১ ফ্লাইটের সব যাত্রী ও পরিবারের বেদনা অনুভব করছি। সৃষ্টিকর্তা তাদের শান্তিতে রাখুন এবং যারা এ ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছেন তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আপনাদের সবার জন্য প্রার্থনা।

মুস্তাফিজুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, যারা বেঁচে আছেন তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। আল্লাহ বিদেহী আত্মাদের শান্তিতে রাখুন। আমরা শোকাহত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ড প্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন কারাগারে নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকালে বিডি২৪লাইভকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বেগম জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আজ দুপুরের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছাবে।

এদিকে আজ সকালে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে গতকাল ১২ মার্চ দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ৪ মাসের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টে। জামিনের আড়াই ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মূলত চার যুক্তিতে চার মাসের জামিন দেন।

আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

রায়ের আদেশের সময় বিচারক বলেন, আমরা উভয়পক্ষকে শুনেছি। এখন আদেশ দিচ্ছি। চার বিষয় বিবেচনা করে এই আদেশ দেয়া হচ্ছে...

১. সাজার পরিমাণ বিবেচনা (অর্থাৎ বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে, তা বিবেচনা)।

২. মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি।

৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি

৪. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।

এ সময় আদালত আরও বলেন, একই সঙ্গে আদালত তার আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। এই পেপার বুক তৈরি হলে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা আপিল শুনানির জন্য আসতে পারবেন বলেও আদেশ দেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়। রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়েন। রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

নাটোরের দিঘাপতিয়া এলাকার দুবাই প্রবাসীর বাড়ি থেকে চার জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশ। বাড়িটি ঘিরে রাখার তিন ঘন্টা পর অভিযান শেষে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় ৫টি ককটেল, ৪টি চাপাতি, জিহাদী বই, সালফারসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিকের ভাই রফিক সিকদারকে ডিবি পুলিশের হোফজতে নেয়া হয়েছে। সোমবার (১২ মার্চ) মধ্যরাত থেকেই দীঘাপতিয়া এলাকায় উত্তরা গণভবনের পাশের ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়।

 পরে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্নসর্মপণ করতে বলা হয়। এর কিছুণ পরই গুলির শব্দ শোনা যায়।

 বাড়িটি ল্যক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। ভেতরে থাকা এক জঙ্গি আত্নসমর্পণ করার পর বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে পুলিশ।

আটককৃতরা হচ্ছে, সিংড়া উপজেলার আরকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী মিয়ার ছেলে আনিসুর রহমান ওরফে আনিস (৪০), বাগাতিপাড়া উপজেলার চাপাপুকুর গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪২), একই এলাকার মৃত ভিকু মন্ডলের ছেলে ফজলুর রহমান ওরফে ফজলু (৩৮) এবং নলডাঙ্গা উপজেলার খোলাবাড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ফোজলার রহমান এর ছেলে জাকির হোসেন ওরফে জাকির মাস্টার (৩৮)।

আজ মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকাল সাতটায় উত্তরা গণভবনের পাশে চক ফুলবাড়ি এলাকার ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

তিনি জানান, পুলিশ দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাইকে বাড়ির ভেতরের বাসিন্দাদের বের হয়ে আসতে বলা হয়। 

বের হয়ে না এলে পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে প্রথমে একজন আত্নসমর্পণ করে, পরে তার মাধ্যমে যোগাযোগ করলে আরও তিনজন বেরিয়ে আসে। পুলিশ তাৎণিকভাবে তাদের আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।

নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, বেশ কিছু জঙ্গী একটি বাড়িতে অবস্থান নিয়ে গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদে দিঘাপতিয়া এলাকার দুবাই প্রবাসি ইকবাল সিকদারের বাড়িটি গতরাত ৩টার থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ। এসময় জঙ্গীদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের আত্মসমর্পনের জন্য বারবার আহবান জানান কিন্তু পুলিশের আহবানে কোন ভাবেই সাড়া দিচ্ছিল না তারা। পরে ফজর নামাজ পর এক জঙ্গি সদস্য পুলিশের আহবানে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরো তিনজনকে আটক করা হয়। এসময় বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি ককটেল, চারটি চা পাতি, বেশ কিছু জিহাদী বই, কিছু পরিমানের সালফার, একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে অভিযান শুরু হয়। এ সময় ভিতরে থাকা জঙ্গী সদস্যদের বাহিরে এসে আত্মসমর্পনের আহবান জানান পুলিশ প্রশাসন। তখন পুলিশের হাত মাইক ব্যবহার করে সকলকে সতর্ক করা হয়।

সকালে বাড়িটি তল্লাশি করে একটি ল্যাপটপ, পাঁচটি মুঠোফোন, একটি মডেম, পাঁচটি সিম ও সিডি, তিনটি ধারালো অস্ত্র, পাঁচটি ককটেল, কিছু পেট্রোলসহ একটি জারেকিন, কিছু কাচের বোতল ও ফসফরাস জব্দ করা হয়। একটি ঘরে বেশ কিছু ভিজিটিং কার্ড, বইপত্র পাওয়া যায়। পুলিশ সুপার দাবি করেন, বাড়িটি জঙ্গি বসবাসের উপযোগী একটি বাড়ি। এর চারদিকে উঁচু দেয়াল, ভেতরে অন্ধকার। বাড়িতে খাট, চৌকি নেই।

বাড়িটির পাশের এক বাসিন্দা জানান, সেখানে দিঘাপতিয়ার একজন ছাত্র থাকতেন। তিনি স্কাউট সদস্য ছিলেন। বাড়ির এক কক্ষ থেকে তার নাম লেখা একটি টিনের বাস্ক পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিক ইকবাল সিকদার দুবাই থাকেন। বাড়িটি দেখাশোনা করেন তাঁর চাচাতো ভাই রফিক শিকদার। বাড়িটি দুবাই প্রবাসি ইকবাল সিকদারের হলেও তার ভাই রফিক সিকদার দেখাশুনা করতেন। মাস খানেক আগে রফিক সিকদারের কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নেয় দিঘাপতিয়া এ মকে কলেজের শিার্থী আমির হামজা। এরপর থেকেই বাড়িটিতে দু-একজন মানুষের যাতায়াত ছিল। বেশির ভাগ সময় বাড়িটির গেট বন্ধ থাকতো।

তবে আমির হামজাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সুপার আরো জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার জঙ্গী আস্তানার যে রকম বাড়ি, এখানেও সে বাড়িটি একই রকমের। বাড়িটির তিনটি কক্ষ থাকলেও একটি কক্ষে মাত্র লাইট ছিল। আর সেখানে জঙ্গীরা অবস্থান নিয়েছিলো। তবে নাটোরে তাদের নাশকতার কোন পরিকল্পনা ছিল কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত জঙ্গীদের সাথে কথা বলে জানা যাবে। তবে আটককৃতদের নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযানে পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের নেতৃত্বে মুল অভিযান পরিচালনা করেন, গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই।এ সময় নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম, হেডকোয়াটার ফায়জুল ইসলাম, নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান সহ ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশগ্রহন করেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখন একেবারে শূন্য। তাদের উন্নয়ন খালি ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে। ঢাকার বাইরের মানুষের দুরবস্থা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। গ্রামে গেলে বোঝা যায় মানুষের কী অবস্থা।

সোমবার (১২ মার্চ) মতিঝিলের এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির এক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২৪ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে এই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়।

এরশাদ বলেন, আওয়ামী লীগ বলে- মধ্য আয়ের দেশ। তাহলে পানির মধ্যে বস্তি কেন? ৪০ লাখ গরিব লোক কেন বস্তিতে বসবাস করে। কেন বারবার বস্তিতে আগুন লাগে? অসহায় মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে, কেউ তার খবর রাখে না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, রিজভী সাহেব বলেছেন- জাতীয় পার্টি সমর্থিত মানুষের নাকি অনেক অভাব। আমরা বিএনপিকে দেখিয়ে দিতে চাই আমাদের সমর্থক কত। ২৪ তারিখে আমরা এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ করে এ কথার উত্তর দেব।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি নিজেই ভেঙে পড়ছে। তারা আবার অন্য দলের শক্তি নিয়ে কথা বলার সাহস পায় কোথা থেকে। আমাকে এবং আমার দলকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপি অনেক অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। তারা আমাকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল, কিন্তু ধ্বংস করতে পারে নাই।

প্রতিনিধি সভায় অন্যদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মেজর খালেদ আখতার (অব.), উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, কারি হাবিবুল্লা বেলালী, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জহির, মো. আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, সরদার শাহজাহান, নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আশরাফ সিদ্দিকী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. ইসহাক ভুইয়া, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, নির্মল দাস, খোরশেদ আলম খুশু, এমএ রাজ্জাক খান, সালাহউদ্দিন খোকা মোল্লা, হারুন অর রশিদ, মো. জামাল রানা, সৈয়দা পারভীন তারেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘ফ্লাই ফাস্ট-ফ্লাই সেফ’ স্লোগানে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ৭৬ আসনের দুটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

 দ্রুত আকাশপথে ভ্রমণ করুন, নিরাপদে ভ্রমণ করুন—আশ্বাস দিয়ে চলাচলকারী বিমানটিই গতকাল সোমবার অনেক প্রাণহানির কারণ হলো। 

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের দাবি, নেপালি কর্তৃপক্ষের রাডারের ভুল সংকেতের কারণে বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে।

 এখানেও স্পষ্ট, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও পাইলটের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি চলছিল। এরই মধ্যে অডিও রেকর্ডটি ইউটিউবে ছাড়া হয়েছে।

নেপালি এ পত্রিকা বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেওয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট। রানওয়ে ০২ (দক্ষিণের শেষ প্রান্তের) ও রানওয়ে ২০ নিয়েই এ দ্বিধা।

 অডিও রেকর্ডের শুরুর দিকে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে ইউএস-বাংলার ক্যাপ্টেনকে সতর্ক করা হচ্ছে। এতে বলা হয়, ‘আমি আবারও বলছি, রানওয়ের ২০-এর দিকে এগোবেন না।’

 পাইলটকে কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করতেও বলা হয়। কারণ অন্য একটি বিমান অবতরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। পরে এটিসি পাইলটের কাছে জানতে চায়, তিনি রানওয়ে ০২ নাকি ২০-তে অবতরণ করতে চান। পাইলট জানান, ‘আমরা ২০ নাম্বার রানওয়েতে অবতরণ করতে চাই।’ তখন তাঁকে রানওয়ের শেষ প্রান্তে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। 

পরে পাইলট আবার জানতে চান তিনি রানওয়ের নির্দিষ্ট এলাকায় আছেন কি না। তখন তাঁকে না করে দেওয়া হয়। এবার তাঁকে ডান দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এটিসি। পাইলট তাই করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘স্যার, আমরা কি অবতরণ করতে পারি?’ 

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর এটিসির নিয়ন্ত্রক চিৎকার করে বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, বাঁক নিন...!’ এরপর কিছুক্ষণ কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে টাওয়ারে আগুনের সংকেত আসে, যাতে পরিষ্কার হয় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ দাবি করেন, ‘কাঠমাণ্ডু এটিসি (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) টাওয়ারের পক্ষ থেকে গাফিলতি ছিল। তারা আমাদের পাইলটদের ভুল বার্তা দিয়েছে। সে কারণেই এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। 

রানওয়ের কোন দিক থেকে পাইলট অবতরণ করবেন তা তিন মিনিট ধরে আমাদের পাইলটকে দেওয়া হয়েছে। 

তাদের এই বার্তায় কনফিউশনের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আমাদের পাইলটকে মিসলিড করেছে ভুল রানওয়েতে ল্যান্ড করার জন্য।’ পাইলটের সঙ্গে কাঠমাণ্ডু এটিসির কথোপকথনের তিন মিনিটের অডিওটি নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নেপালি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইউএস-বাংলার বিমানটি ভুল পথ দিয়ে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার চেষ্টা করছিল। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম কাঠমাণ্ডু পোস্টকে বলেন,

 ‘বিমানটি যখন রানওয়েতে নামার চেষ্টা করছিল তখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। রানওয়ের দক্ষিণ দিকে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।

 কিন্তু বিমানটি নামছিল রানওয়ের উত্তর দিক থেকে। এই অস্বাভাবিক অবতরণের কারণ কী তা আমরা এখনো জানি না। ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আসিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বিমানে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। এই এয়ারক্রাফটের বয়স ১৬ বছর। 

এ রকম আমাদের চারটি এয়ারক্রাফট আছে, যেগুলো ত্রুটি ছাড়াই চলাচল করছে। এই পাইলটের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান জীবিত আছেন। তিনি এয়ারফোর্সের অভিজ্ঞ সাবেক পাইলট এবং তাঁর ফ্লাইং আওয়ার পাঁচ হাজার ঘণ্টার বেশি।

শুধু এই এয়ারক্রাফটে উনি এক হাজার ৭০০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এই এয়ারক্রাফটের একজন ইনস্ট্রাক্টর।’ ইমরান আসিফ বলেন, ‘এটিসির কথোপকথন শুনে আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের পাইলটের কোনো গাফিলতি ছিল না।’ সূত্র: কালেরকন্ঠ।

নাটোরের উত্তরা গণভবনের পিছনে ঘিরে রাখা জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকাল পৌনে ৬টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. আব্দুল হাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযানে এখন পর্যন্ত চারজন আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে আস্তানায় হাত মাইক ব্যবহার করে সকলকে সতর্ক করা হয়। বলা হয়, বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করতে।

সোমবার দিবাগত রাতে নাটোর পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল বাড়ি দুটি ঘিরে রেখেছিলেন।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget