বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণ ব্যতিরেকে দেশের সার্বিক চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং নারীর উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন এ উপলব্ধি থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর নারী সমাজের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেন এবং তিনিই প্রথম জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ১৫টি আসন সংরক্ষিত করেন এবং এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ। যার ফলে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রথম সংসদেই নারীরা প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন এবং এর মাধ্যমে দেশে নারী উন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিপুল সংখ্যক নারীকে উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই অনুধাবন থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে নারী উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠন করলে নারী উন্নয়ন থমকে দাঁড়ায়। অতঃপর জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠন করলে দেশের নারী সমাজ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ এমডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনে বিশ্বে ১ম স্থান অধিকার করেছে। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের জরিপে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অগ্রগামী দেশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রির্পোট ২০১৭ অনুযায়ী ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৪৭তম যা ২০১৬ সালের চেয়ে ২৫ ধাপ এগিয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ৭ম স্থানে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং এদেশের নারীদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা ও ত্যাগের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৭২ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা পরিষদে ১ জন করে নির্বাচিত মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশে উন্নীত করা হয়েছে। এসকল আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা নারীর ক্ষমতায়ন বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, নারী উন্নয়নে অগ্রমুখী কৌশল গ্রহণের ফলেই আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, হুইপ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন, বিচারপতি, সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিসি, এসপিসহ সরকারের সকল ক্ষেত্রে নারীদের দৃপ্ত পদচারণা। এমনকি আমাদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েসন-এর চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসির উদ্দিনও বক্তৃতা করেন।

Post a Comment