হজ নিবন্ধনে জটিলতার আশঙ্কা

মুসলমানদের পবিত্র একটি ইবাদত হজ। কিছু ক্রুটি থাকলেও প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ভাল ভাবে হজে যায়। কিন্তু এবারের হজ নিবন্ধন নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ঠরা।

সূত্র জানায়, চলতি বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে মঙ্গলবার। তবে এ কার্যক্রমে এখনও গতি আসেনি। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনে নিবন্ধিত হয়েছে মাত্র ১২৬ জন। অথচ ১৮ মার্চের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ হজযাত্রীকে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রথমদিকে ধীরগতির কারণে শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন সম্পন্ন করা নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এজেন্সি মালিকরা জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের কাছ থেকে এখনও প্যাকেজের টাকা এবং অনেকের পাসপোর্ট সংগ্রহ না হওয়ায় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিবন্ধনের সময় আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হবে, এ সময় বাড়বে বলে তাদের আশা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বাকি সংখ্যক যাবেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। হজে যাওয়ার জন্য হজ অফিসের মাধ্যমে আগে থেকেই প্রাক-নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে কোটা অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যককে এখন মূল নিবন্ধন করতে হবে। ১ মার্চ থেকে সরকারি এবং ৬ মার্চ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে ১৮ মার্চ।

সূত্রমতে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রীর কোটার মধ্যে গাইড ও হজ ব্যবস্থাপনার জন্য ৩ হাজার ৪০০ জন প্রাক-নিবন্ধন ছাড়াই সরাসরি নিবন্ধিত হতে পারবেন। সে হিসাবে এ ব্যবস্থাপনার ১ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ জনকে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনার ৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার মধ্যে প্রায় ৭ হাজার জনকেই নিবন্ধন করতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন সিস্টেম ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিত ৩ হাজার ৯৫৪ জনের মধ্যে ৩ হাজার ২২১ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১২৬ জনের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কোটার নিবন্ধন প্রায় শেষ হলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের এ ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মদিনা এয়ার ট্রাভেলসের এমডি ও হাবের অর্থ সচিব মাওলানা ফজলুর রহমান জানান, নিবন্ধন কবে থেকে শুরু হবে তা হজযাত্রী বা এজেন্সি মালিকদের জানা ছিল না। সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পরই সবাইকে জানানো হয়েছে। তবে হজযাত্রীদের কাছ থেকে এখনও টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আগামী সপ্তাহে অনেকেই টাকা পেয়ে যাবেন। তাছাড়া অনেকের নতুন পাসপোর্ট নেই। সে কারণেও নিবন্ধনে সময় লাগবে।

তিনি জানান, ১৮ মার্চের মধ্যে কোটার সব হজযাত্রীর নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়া সম্ভব হবে না। অন্তত চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত সময় পেলে ভালো হবে। এজন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবি জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে হজ অফিসের নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইটি প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশনের পরিচালক ও সিইও বজলুল হক বিশ্বাস বলেন, হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এজেন্সিগুলো যথাসময়ে তাদের হজযাত্রীর নিবন্ধন করলে সার্ভারে কোনো জটিলতার আশঙ্কা নেই। তবে শেষ মুহূর্তে একযোগে ব্যাপক সংখ্যক নিবন্ধনের চেষ্টা করলে স্বাভাবিকভাবেই সার্ভারের গতি হতে পারে। তাই এজেন্সিগুলো যাতে গড়িমসি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।

সূত্রমতে, চলতি বছর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ ব্যবস্থাপনার জন্য এ পর্যন্ত দুই দফায় ৯১২টি এজেন্সি অনুমতি পেয়েছে। ২০১৭ সালে অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা ছিল ৬৩৫টি। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১২৭,১৯৮ জন। চলতি বছরও সমসংখ্যক বাংলাদেশি হজে যেতে পারবেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮তে ৭৭২ এবং ৭ মার্চ ২০১৮তে ১৪০টি এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক এজেন্সি সর্বনিম্ন ১৫০ জন করে হজযাত্রীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে পারবে। কোনো এজেন্সির নিবন্ধিত হজযাত্রী ১৫০ জনের কম হলে অন্য একটি এজেন্সির সঙ্গে মিলে লিড এজেন্সি নির্ধারণ করে ১৫০ জনের কোটা পূরণ করে তবেই হজযাত্রী পাঠাতে হবে। বর্তমানে লিড এজেন্সি নির্ধারণ, মূল নিবন্ধন এবং এক এজেন্সি থেকে আরেক এজেন্সিতে হজযাত্রী স্থানান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৯২ সিরিয়াল পর্যন্ত হজযাত্রীদের মূল নিবন্ধনের যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অবশ্য এ সিরিয়ালের মধ্য থেকে যারা নিবন্ধন করবেন না তাদের স্থলে প্রাক-নিবন্ধিতদের পরবর্তী সিরিয়াল থেকে ক্রমানুসারে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

মূল নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীর বিমান ভাড়ার জন্য ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা এজেন্সির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা নিশ্চিত করে দেখাতে হবে এবং এ টাকা বিমানের টিকিট ক্রয়ের জন্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে এজেন্সিগুলো উত্তোলন বা ব্যবহার করতে পারবে না।

এ বছর সরকারিভাবে দুটি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন একটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর জন্য ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা এবং প্যাকেজ ২ এর জন্য ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৮ টাকা।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget