চলতি বছর চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই

রাজধানীতে চলতি বছর চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই। সব রোগের ক্ষেত্রে চলতি বছর রাজধানী আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়ে তিনি বলেন, সামনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা মশা এবং মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার অবস্থা নিয়ে একটি জরিপ করেছে তাতে বলা হয়েছে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা নেই।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারি উদ্যোগে মশকনিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে বাসাবাড়ি মশামুক্ত রাখার দায়িত্ব বাসিন্দাদেরকেই নিতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।

জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, জরিপ প্রতিবেদনে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াবাহিত মশার তেমন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। নগরীর ৯৭ শতাংশই এনোফিলিস মশা, যা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর জন্য দায়ী নয়।

তিনি বলেন, মশার কামড় থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরের বারান্দা, আঙিনা বা ছাদ পরিস্কার রাখতে হবে, যাতে পানি পাঁচ দিনের বেশি জমে না থাকে। এসি বা ফ্রিজের নিচেও যেন পানি যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু মশা দিনে কামড়ায়, তাই এ সময় ঘুমালে মশারি ব্যবহার করতে হবে।

চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুরোগ দ্রুত শনাক্তকরণে কিটস সরবরাহ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ডেঙ্গু রোগের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন। রাজধানীর ৯৩ ওয়ার্ডের একশ' এলাকার দুই হাজার বসতবাড়িতে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ডেঙ্গু রোগের ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্টের ওপর ঢাকা মেডিকেল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ, পপুলার মেডিকেল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে কর্মরত ১৮০ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান ও বিএসএমএমইউ মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Post a Comment

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget