মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকালে বিডি২৪লাইভকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বেগম জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, আজ দুপুরের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছাবে।
এদিকে আজ সকালে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে বেগম জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এর আগে গতকাল ১২ মার্চ দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ৪ মাসের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টে। জামিনের আড়াই ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মূলত চার যুক্তিতে চার মাসের জামিন দেন।
আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
রায়ের আদেশের সময় বিচারক বলেন, আমরা উভয়পক্ষকে শুনেছি। এখন আদেশ দিচ্ছি। চার বিষয় বিবেচনা করে এই আদেশ দেয়া হচ্ছে...
১. সাজার পরিমাণ বিবেচনা (অর্থাৎ বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে, তা বিবেচনা)।
২. মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি।
৩. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন এবং জামিনের অপব্যবহার করেননি
৪. তার বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।
এ সময় আদালত আরও বলেন, একই সঙ্গে আদালত তার আদেশে আগামী চার মাসের মধ্যে মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক প্রস্তুত করতে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন। এই পেপার বুক তৈরি হলে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা আপিল শুনানির জন্য আসতে পারবেন বলেও আদেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অর্থ সবাইকে সমানভাবে ভাগ করে পরিশোধ করতে বলা হয়। রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়েন। রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

Post a Comment